বিয়ের দাবিই কি ডেকে আনল মৃত্যু? আদালতে ৪ জন দোষী
Guddu Bhattacharjee
টঙ্ক, রাজস্থান: বিয়ের জন্য চাপ দেওয়াকে কেন্দ্র করে ২৫ বছর বয়সী এক তরুণীকে হত্যার মামলায় একই পরিবারের চার সদস্যকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে রাজস্থানের টঙ্কের বিশেষ SC/ST আদালত। দোষীদের মধ্যে রয়েছেন মৃতার প্রেমিক প্রধান, তাঁর মা সঞ্জনা দেবী, ভাই সাওয়াই রাম এবং বোন সুশীলা। আদালত চারজনকে মিলিয়ে ₹১.৩৫ লক্ষ জরিমানাও করেছে। মামলার নথি ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মৃতা সুমন এবং প্রধানের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। দু’জনেরই জয়পুরে বসবাস এবং টঙ্ক জেলার সঙ্গে পারিবারিক যোগসূত্র ছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, দু’জনের জাতিগত পার্থক্যের কারণে প্রধান বিয়ের বিষয়ে পিছিয়ে যাচ্ছিলেন। সুমন বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকলে তাঁকে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হয় বলে প্রসিকিউশনের দাবি। ২০২২ সালে সুমনকে একটি শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠানের কথা বলে গ্রামে ডেকে আনা হয় বলে মামলায় অভিযোগ। এরপর তাঁকে বিষাক্ত রাসায়নিক খাওয়ানো হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে আসে। প্রথমদিকে ঘটনাটিকে সাপের কামড়ে মৃত্যু হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছিল বলে তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ। ময়নাতদন্তেই বদলে যায় তদন্তের মোড় সুমনের মৃত্যুর পর ময়নাতদন্ত ও ভিসেরা পরীক্ষার ফলাফলে সাপের কামড়ের পরিবর্তে বিষাক্ত রাসায়নিক গ্রহণের বিষয়টি সামনে আসে। এরপর পরিবারের সন্দেহ বাড়ে। তদন্তে আরও উঠে আসে, সুমনের ATM কার্ড ব্যবহার করে তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ₹৮০,০০০ টাকা তোলা হয়েছিল সুমনের ভাইয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে ২০২৩ সালের মে মাসে মামলা নথিভুক্ত হয়। তদন্তের পর পুলিশ হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা চালায়। ২৭ সাক্ষী ও ৩৭টি নথির ভিত্তিতে রায় l বিশেষ বিচারক আরতি মাহেশ্বরী মামলায় ২৭ জন সাক্ষীর বক্তব্য এবং ৩৭টি নথি বিবেচনা করে চার অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করেন। আদালত প্রত্যেককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি মোট ₹১.৩৫ লক্ষ জরিমানা ধার্য করেছে।

0 Comments
Leave a Comment